ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের এর জন্য কত জিবি র্যাম প্রয়োজনীয়?
* RAM কি বা কত জিবি র্যাম প্রয়োজনীয় বা দরকার এমন প্রশ্ন অনেকেই করেন।কম্পিউটারের কাজের জন্য ডাটা গুলোকে প্রাথমিক ভাবে এই রেমে রাখা হয়।সুতরাং যাচ্ছে র্যাম যত বেশি হবে তত বেশি ডাটা নিয়ে কাজ করা যাবে। তাই কাজে সুবিধার্থে সবাই চায় রাম যুক্ত ডিভাইস নিতে। আপনি নিশ্চয়ই জানতে চাইবেন বর্তমানে সময়ের জন্য কত জিবি র্যাম ব্যবহার করলে সব কাজ মোটামোটি করা সম্ভব হবে।
পাঠক আজ আমি আপনাদের এই বিষয়ে কিছু তথ্য তুলে ধরবো। এই পোস্টে লেখার আগে আমি ৪ ছাইজের র্যাম (৪জিবি,৮জিবি,১৬জিবি,৩২জিবি)নিয়ে কাজ করেছি।আর যেসব পরীক্ষা চালিয়েছে তার মধ্য অনলাইন ব্রাউজিং,ভিডিও গেম,গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, ভিডিও এডিটিং,।কত জিবি র্যাম প্রয়োজনীয়? এই পোস্টটি পড়ার পর আপনি নিজেই তা বুঝতে পারবেন।প্রথমে আমি আপনার অনলাইন ব্রাউজিং টেস্টের ফল জানাবো।
অনলাইন ব্রাউজিং
অনলাইন ব্রাউজিং এর ক্ষেত্রে ট্যাব ওপেন করা ফর্মুলা ব্যবহার করেছি। একেক র্যামে একেক রকম মজার ফলাফল পেয়েছি। ক্রোম ব্রাউজারে টেস্ট করেছি কোন র্যাম দিয়ে কাজটি ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটের ওপেন করা যায়।
*৪জিবি র্যাম:এই র্যামে ১৩ টি ট্যাব খুলেছি এবং প্রতিটি ট্যাবের ভিন্ন ভিন্ন ভারী ওয়েবসাইট ছিল। মজার বিষয় হলো ৪জিবি র্যাম মাত্র ১৩ টি ট্যাব সাপোর্ট করেছে। যখনই ১৪ নাম্বার ট্যাব ওপেন করেছি সাথে সাথেই ক্রোম ক্র্যাস করেছে। পরীক্ষাটি দুইবার করেছি। ফলাফল দুই বারই সেইম।
*৮জিবি র্যাম:৮জিবি র্যামে ভেবেছিলাম ৫০ টির বেশি ট্যাব ওপেন করতে পারবো কিন্তু আমি হতাশ। প্রথম ২৫ টি ট্যাব স্মুথলি খুললেও বাকি ট্যাব গুলো খুলতে একটু কষ্ট করতে হয়েছে।সর্বমোট ৪১ টি ট্যাপ ওপেন করতে সফল হয়েছি। ৪২/৪৩ নাম্বার ট্যাব ওপেন করার সময় ক্রোম ক্রাস করে পরীক্ষাটি দুইবারের বেশি করার ধৈর্য হয়নি আমার।
*১৬ জিবি র্যাম:১৬ জিবি র্যাম বেশ ভালো কাজ দিয়েছে। প্রথম ৮০টি ট্যাব কোন রকম প্রবলেম ছাড়াই ওপেন হয়েছে। এমনকি ১৫০ তম ট্যাব পর্যন্ত মোটামোটি ভালো মতই ওপেন হয়েছে।১৮০ তম ট্যাব ওপেন করা মাত্রই ব্রাউজার ক্রাশ করেছে। এই পরীক্ষাটি দুইবার করেছি। ফলাফল সেম।
৩২জিবি র্যাম:নিশ্চয়ই এই র্যাম এর পাওয়ার সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? এখন এই র্যাম দ্বারা কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই ১৬০ টি ট্যাব ওপেন করতে সক্ষম হয়েছি এবং ৩৫০ টি ট্যাব মোটামুটি ঝামেলা ছাড়াই ওপেন করেছে।৪১৯ তম ট্যাব ওপেন করা মাত্রই ব্রাউজার ক্রাশ করে।পরীক্ষাটি তিনবার করেছি। ফলাফল প্রায় সেম।
ভিডিও গেম মোড
দুই হাই গ্রাফিক্সের গেম খেলেছি এই পরীক্ষায়।"কল অব ডিউটি মডার্ন ওয়ারফেয়ার"এবং "রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার" গেম দুটিতে করে যথাক্রমে ৪,৮,১৬ এবং ৩২ জিবি র্যাম ব্যবহারে কেমন প্লে হয় তা দেখেছি।আমি এই পরীক্ষায় একটু অবাক হয়েছি। কারণ এগুলোতে উল্লিখিত র্যামের চেয়েও কম র্যামে কাজ করেছে।"কল অব ডিউটি মডার্ন ওয়ারফেয়ার"গেমটির জন্য ৮ জিবি এবং "রাইজ অব দ্যা টম্ব রাইডার গেমের জন্য ১৬ জিবি র্যাম উল্লেখ ছিলো।
৪জিবি র্যাম:দুটি গেমের মধ্যে দুটিই প্লে হয়েছে।
৮জিবি র্যাম:দুইটি গেম চালু হয়েছে কিন্তু "রাইজ অব দা টম্ব রাইডার" গেমটি ফুল র্যাম নিয়ে চলছিল সিপিড টেম্প বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।
১৬জিবি র্যাম:দুটি গেইম স্মুথলি চলেছে।
৩২ জিবি র্যাম:কিছু বলবো না, বেশি বললে পোস্ট লিখতে কিবোর্ড নষ্ট হবে (হাহাহা)। অসাধারণ পারফর্ম করেছে।
ভিডিও এডিটিং মোড
আমরা জানি ভিডিও এডিটিং করতে অনেক হাই গ্রাফিক্স লাগে আর সেই সাথে র্যামও লাগে।৪,৮,১৬,এবং ৩২ জিবি র্যামে ভিডিও এডিটিং করে দেখছি।যদিও সাধারণ এডিটিং এ তেমন কোন সমস্যা চোখে পড়েনি কম র্যাম ব্যবহার করে।কিন্তু বড় ভিডিও এডিটিং যেমন সাউন্ড মিক্সিং,ভিডিও কেটে অন্য ভিডিওর অংশ যোগ করা,আফটার ইফেক্ট ব্যবহার করা। এসবে ৮ জিবি র্যাম ব্যবহার করে শান্তি পাওয়া যায়নি। আসলে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং এবং এডিটিং করার ক্ষেত্রে হাই র্যাম থাকা জরুরী। সর্বনিম্ন ১৬ জিবি র্যাম অবশ্যই প্রয়োজন।
তবে শুধু বেশি র্যাম নিলে যে পিসি ভালো পারফর্ম করবে তা কিন্তু নয়।কারণ আপনি যে কাজের জন্য নিচ্ছেন সেটাও লক্ষ্য রাখতে হবে।
শুধু গান মুভি আর সাধারন কাজের জন্য ১৬/৩২ জিবি র্যাম ব্যবহার করা মানে অপচয়।ওইগুলোতে ৪জিবি র্যামই যথেষ্ট।তবে দিন দিন পিসির সফটওয়্যার গুলো বেশ উন্নত ও আপডেটেড হওয়ায় এগুলোকে উপযুক্ত কাজে লাগাতে বেশি র্যাম প্রয়োজন।পাঠক এই ছিল আজকের র্যাম নিয়ে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পোস্ট। আমার মতে বর্তমান সময়ে সফটওয়্যার বিবেচনা করলে ৮জিবি র্যাম দিয়ে চলবে সবকিছু কিন্তু খুব দ্রুতই আপনাকে তা আপডেট করতে হবে নইলে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আর যারা ১৬ জিবি ব্যবহার করেছেন তারা আপাতত রিলাক্স মোডে থাকুন।আজকের পোস্টটি কেমন লাগলো তা কমেন্ট জানাবেন।কোন প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে নির্দ্বিধায় জানাবেন
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url