ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

 ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ বর্তমান এই আধুনিক যুগে আমাদের জন্য তা জানা অনেক বেশি দরকারি। আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি সেখানে ইন্টারনেটে আমাদের  লেনদেন এবং তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে অনেক ভয় থাকে।

আপনারা ডিজিটাল তথ্যগুলো নিরাপদ রাখতে এবং ইন্টারনেটে জালিয়াতি থেকে বাঁচতে এই বিশেষ প্রযুক্তি হতে পারে শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করব কেন আপনারা প্রযুক্তির এই বিষয়টি বোঝা উচিত।

ব্লকচেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ তা বর্তমান সময়ে আমাদের সবারই কম বেশিব জানা উচিত কারণ এই ইন্টারনেটে তথ্য জমানোর একটি নতুন ও শক্তিশালী পদ্ধতি। যখন কোন ডিজিটাল খাতায় আমাদের হিসেব লিখে রাখি, তখন কেউ চাইলে তা মুছে দিতে পারে বা বদলে দিতে পারে। কিন্তু ব্লকচেইন হলো এমন একটি ডিজিটাল খাতা যেখানে একবার কিছু লিখলে তা আর কেউ কোনদিনও পরিবর্তন করতে পারে না। আজকের দিনে এটি আমাদের লেনদেনকে অনেক বেশি নিরাপদ করে তুলেছে। যদি আপনি এই বিষয়টি বুঝতে পারেন, তবে আপনি প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী হয়ে থাকবেন না, বরং আপনি এর গভীর রহস্য গুলো আয়ত্ত করতে পারবেন।

গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে,তারা অন্যদের চেয়ে ইন্টারনেটে অনেক বেশি নিরাপদ থাকে। এটি শুধু টাকার হিসাব রাখার জন্য নয়, বরং আমাদের পরিচয় পত্র থেকে শুরু করে জমির দলিল পর্যন্ত  সবকিছু নিরাপদে রাখার কাজে ব্যবহার করা যায়।যখন কোন তথ্য ব্ল্যাক চেইন জমা হয়, তখন তা কোনো একটি কম্পিউটারে থাকে না, বরণ সারাবিশ্বের হাজার হাজার কম্পিউটারের ছড়িয়ে থাকে। এই কারণেই এটি প্রযুক্তিকে কেউ হ্যাক করতে পারে না। তাই ব্লাক চেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এখন থেকেই বদলানো উচিত। এটি আমাদের মেধা বিকাশে এবং ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়তে অনেক বেশি সাহায্য করে। 

ব্লাক চেইন কিভাবে কাজ করে

ব্ল্যাক চেইন কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে আমাদের একটি চেইনের কথা ভাবতে হবে।এখানে একেকটি 'ব্লক' হলো তথ্যের ভান্ডার এবং এই ব্লগগুলো একের পর এক যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ 'চেইন' বা শিকল তৈরি করে।যখনই নতুন কোন তথ্য বা লেনদেন হয়, তখন এটি নতুন ব্লগ তৈরি হয় এবং তা আগের ব্লকের সাথে শক্ত ভাবে লেগে যায়।এই চেইনটি ইন্টারনেটে থাকা অনেকগুলো কম্পিউটারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, করুন আপনি আপনার ক্লাসের সবার সামনে একটি খাতায় কিছু লিখলেন। যেহেতু সবাই লেখাটি দেখেছে, তাই আপনি পরে একা গিয়ে তা বদলে দিতে  পারবেন না। ব্লক চেইন ও ঠিক একইভাবে কাজ করে।এটি প্রতিটি তথ্যকে হাজার হাজার মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয় যাতে কেউ জালিয়াতি করতে না পারে। এর ফলে মধ্যস্থতাকারী কোন ব্যাংকের প্রয়োজন ছাড়াই সরাসরি লেনদেন করা সম্ভব হয়। এটি আমাদের সময় এবং খরচ দুইটাই বাঁচাতে দারুন সাহায্য করে। 

এছাড়া ব্লক চেইনের প্রতিটি ব্লকে একটি বিশেষ কোড থাকে।যদি কেউ কোন ব্লকের তথ্য বদলানোর চেষ্টা করে,  তবে তার হ্যাশ কোড বদলে যায় এবং পুরো চেইনটি ভেঙ্গে পড়ে। এর ফলে সাথে সাথে সবাই বুঝে যায় যে কোথাও কোন কারচুপি সুরক্ষা হচ্ছে।এই শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থার কারণেই মানুষ এখন সাধারণ ব্যাংকিংয়ের চেয়ে ব্লাক চেইন প্রযুক্তির উপর বেশি ভরসা করতে শুরু করেছে। এটি আমাদের ডিজিটাল জীবনের এক বিশেষ সুরক্ষা। 

ব্লক চেইন কি বন্ধ হবে

ব্লক চেইন কি বন্ধ হবে কিনা এই প্রশ্নটি এখনো অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি, এই প্রযুক্তিটি পুরোপুরি বন্ধ করা পায় অসম্ভব। কারণ এটি কোন একটি কোম্পানির সার্ভারে বা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চলে না। এটি পৃথিবীর লাখ লাখ কম্পিউটারের ছড়িয়ে থাকা একটি সিস্টেম। যদি একটি কম্পিউটার বা একটি দেশের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়, তবুও অন্য জায়গায় থাকা কম্পিউটার গুলোর মধ্যে এই ব্লক চেইন চলতে থাকবে।

ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের গুরুত্ব যত বাড়বে,এই প্রযুক্তি ব্যবহার ততো বেশি ছড়িয়ে পড়বে। বড় বড় দেশ এবং বিশ্বের নামি দামী প্রতিষ্ঠান গুলো এখন ব্লক চেইন ব্যবহার শুরু করেছে। এটি বন্ধ হওয়ার চেয়ে বরং এটি আরো উন্নত হয়ে আমাদের জীবনকে সহজ করবে। যখন আমরা আমাদের তথ্যের শতভাগ নিরাপত্তা চাইব, তখন এই ব্লক চেইন হবে আমাদের একমাত্র ভরসা। তাই এটি ভবিষ্যতে বন্ধ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। 

ব্লক চেইন প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

ব্লাক চেইন প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা উভয়ই আমাদের জানা থাকা দরকার। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি অত্যন্ত নিরাপদ এবং  স্বচ্ছ। এখানে তথ্য জালিয়াতি করার কোন সুযোগ নেই বললেই চলে। এছাড়া এখানে কোন তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয় না বলে লেনদেনের খরচ অনেক কমে যায়। আপনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য পানতে খুব দ্রুত এবং নিরাপদে যেকোনো সম্পদ পাঠিয়ে দিতে পারেন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।

তবে এর কিছু অসুবিধা রয়েছে যা আমাদের মনে রাখা উচিত। এটি চালাতে অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং এটি অনেক জটিল হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা কিছুটা কঠিন হতে পারে। এছাড়া একবার যদি আপনি আপনার ডিজিটাল ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড হারিয়ে ফেলেন, তবে তা আর ফিরে পাওয়ার কোন উপায় থাকে না। এই সীমাবদ্ধতা গুলো থাকা সত্ত্বেও এর উপকারিতা অনেক বেশি।আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্লাক চেইন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানলে এই সুবিধা গুলো আমরা পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারব।

ব্লক চেইন শেখা কি গুরুত্বপূর্ণ

ব্লক চেন শিখা কি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি যদি আপনার মনে থাকে তবে উত্তর হলো এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সেরা একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে। পৃথিবী যেভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে তাতে কেবল পুরানো পড়ালেখা দিয়ে ভবিষ্যতে টিকে থাকা কঠিন হবে। আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করছি সেখানে ইন্টারনেটে নিরাপত্তা আর তথ্যের সঠিক হিসাব রাখা অনেক বড় একটি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি যদি এখন থেকে এই নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিখতে শুরু করেন তবে আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন। এটি কেবল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নয় বরং যারা ব্যবসা করতে চান বা ভালো চাকরি করতে চান তাদের সবার জন্য এটি শেখা অনেক বেশি দরকারি।

ব্লক চেইন শিখলে আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে কোনো ব্যাংকের সাহায্য ছাড়াই নিরাপদে লেনদেন করা সম্ভব হয়। বর্তমানে বড় বড় কোম্পানিগুলো এমন মানুষ খুঁজছে যারা ব্লগ চেইন প্রযুক্তি বোঝেন এবং এটি ব্যবহার করে নতুন নতুন সিস্টেম তৈরি করতে পারেন। এই কাজটি শিখলে আপনারা চিন্তাশক্তি বাড়বে এবং আপনি অনেক জটিল সমস্যার খুব সহজে সমাধান দিতে পারবেন। এটি আপনার ক্যারিয়ারকে অনেক শক্তিশালী করবে কারণ সারা পৃথিবীতে এটি কাজের মানুষের প্রচুর অভাব রয়েছে। আপনি যদি নিয়মিত নিয়মিত চর্চা করেন তবে এই কঠিন বিষয়টি আপনার কাছে পানির মতন সহজ মনে হবে।যারা আগে থেকেই এই আধুনিক কাজগুলো শিখে নিবে ভবিষ্যতে  তারাই পৃথিবীর বড় বড় কোম্পানিগুলোতে রাজত্ব করবে।

এছাড়া ব্লক চেইন শেখার জন্য আপনাকে অনেক বড় বড় ডিগ্রিধারী হতে হবে এমন কোন কথা নেই। বর্তমানে ইন্টারনেটে অনেক ফ্রি সাইট বা ইউটিউব চ্যানেল আছে সেখান থেকে আপনি এই প্রযুক্তির শিক্ষা নিতে পারেন। আপনি যদি একবার এই সিস্টেমের মূল বিষয়টি বুঝে যান তবে আপনার জন্য কাজের নতুন নতুন দরজা খুলে যাবে। এটি আপনাকে একজন দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিবে। তাই নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে এবং আধুনিক পৃথিবীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে ব্লক চেইন শেখা আপনার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

ব্লক চেইন প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য কি

ব্লগ চেইন প্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য কি তা নিয়ে আলোচনা করলে সবার আগে বলতে হয় এটির দায়িত্ব বন্টন ব্যবস্থার করা। দায়িত্ব বন্টন মানে হলো এই পুরো সিস্টেমটি কোন একজন মানুষ বা কোন একটি কোম্পানির হাতে থাকে না। আমরা যখন ব্যাংকে টাকা রাখি তখন এই টাকার সব হিসাব ব্যাংকের হাতে থাকে। কিন্তু ব্লক চেইনের ক্ষেত্রে সব হিসাব ইন্টারনেটে থাকা হাজার হাজার কম্পিউটারের কাছে থাকে। এর ফলে কেউ চাইলে একাই কোন তথ্য মুছে ফেলতে পারেনা বা কোন জালিয়াতি করতে পারে না। এটি এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি যা একে অন্য সব অনলাইন সিস্টেম থেকে অনেক বেশি নিরাপদ ও আলাদা করে রেখেছে।

এই পর্যন্তের আরও একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর স্বচ্ছতা। এখানে প্রতিটি লেনদেনের হিসাব একটি ডিজিটাল খাতায় লেখা থাকে যা ইন্টারনেটে থাকা সবাই দেখতে পারে। যদিও কে টাকা পাঠাচ্ছে তার নাম গোপন থাকে তবুও প্রতিটি কাজে রেকর্ড সবার কাছে জমা থাকে। এতে করে কোন কোম্পানি বা মানুষ চাইলেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে ঠকাতে পারে না। একবার কোনো তথ্য এই চেনির ভেতরে ঢুকে গেলে তা আর কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। এই অপরিবর্তনীয় গুণের কারণেই মানুষ এখন এই প্রযুক্তির উপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করছে। এটি আমাদের ডিজিটাল জগতে অনেক বেশি পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। 

এছাড়া ব্লক চেইন অনেক দ্রুত কাজ করে এবং এতে ভুলের পরিমাণ একদম নেই বললেই চলে। কারণ এখানে প্রতিটি কাজ কম্পিউটার বা এল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়। সাধারণ মানুষ যখন হাতে কলমে হিসাব করে তখন ভুল হতে পারে কিন্তু ব্লক চেইন ভুল হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এটির দিনরাত ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারে এবং এতে কোন ছুটির দিন নেই। এইসব চমৎকার বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি বর্তমানে দুনিয়ার সবচেয়ে আধুনিক এবং শক্তিশালী একটি প্রযুক্তি হিসেবে  পরিচিত পেয়েছে। আপনি যখন এই বৈশিষ্ঠ্য গুলো গভীরভাবে জানবেন তখন আপনিও এই প্রযুক্তি পছন্দ করবেন।

ব্লক চেইন ডেভেলপার কি

ব্লক চেইন ডেভেলপার কি তা যদি সহজ করে বলে তবে তারা হলেন এমন এক ধরনের কারিগর যারা এই প্রযুক্তির পুরো সিস্টেমটি তৈরি করেন। একজন রাজমিস্ত্রি যেমন ইটের পর ইট সাজিয়ে একটি মজবুত বাড়ি তৈরি করেন তেমনি একজন ডেভেলপার কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল ব্লক গুলো সাজান। তারা এমন সব সফটওয়্যার বা অ্যাপ বানান যা  ব্লক চেইন প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে চলে। এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন পেশা এগুলোর মধ্যে একটি কারণ এই কাজ করতে হলে অনেক বেশি বুদ্ধি এবং পরিশ্রম প্রয়োজন হয়। যারা নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এটি একটি স্বপ্নের পেশা হতে পারে।

একজন ব্লক চেইন ডেভেলপার হতে হলে আপনাকে প্রোগ্রামিং ভাষা এবং লজিক সম্পর্কে অনেক ভালো জ্ঞান রাখতে হবে। আপনি যখন একটি সিস্টেম তৈরি করবেন তখন আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন সেটি হ্যাকারদের হাত থেকে নিরাপদ থাকে। ডেভেলপাররা এইচ চেনের প্রতিটি ধাপ খুব নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করেন যাতে কোন ভুল না থাকে। সারা বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি গুলো এখন এই ডেভেলপারদের অনেক সম্মানের সাথে বড় অংকের বেতন দিয়ে কাজ দিচ্ছে। আপনি যদি ধৈর্য ধরে  এই কাজ শিখতে পারেন তবে আপনাকে চাকরির পেছনে ছুটতে হবে না বরং চাকরি আপনার পেছনে ছুটবে এটি এমন একটি কাজ যা আপনাকে আন্তর্জাতিক মানের একজন প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তুলবে।

বর্তমানে আমাদের দেশের অনেক তরুণ এই পেশায় আসার জন্য চেষ্টা করছে। এটি শুধু টাকা আয়ের মাধ্যম নয় বরং এটি একটি নেশার মতো যেখানে আপনি প্রতিদিন নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। ডেভেলপাররা মূলত স্মার্ট  কন্ট্রাক্ট এবং বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক তৈরি করেন যা মানুষের জীবনকে সহজ করে দেয়। আপনি যদি মনে করেন আপনিও প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিতে চান তবে ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া আপনার জন্য সেরা সুযোগ হবে। সঠিক গাইড লাইন আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে আপনিও একদিন বিশ্বখ্যাত একজন ডেভেলপার হয়ে উঠতে পারবেন।

বাংলাদেশে ব্লক চইন প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের ব্লক চেইন প্রযুক্তি সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমানে অনেক আশার কথা শোনা যাচ্ছে। আমাদের দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই নতুন যাত্রার ব্লগ চেইন প্রযুক্তি একটি বড় মাইল ফলক হতে পারে। আমাদের দেশের সরকারি তথ্যগুলো যদি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাখা হয়  তবে জালিয়াতি বা তথ্য চুরি হওয়ার কোন ভয় থাকবে না। বিশেষ করে জমির দলিল বা ভোটার আইডির মত গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডগুলো ব্লক চেইনে জমা রাখলে তা অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পাবে। এটি আমাদের দেশি ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থাকে অনেক বেশি উন্নত করবে।

তবে এই বিশাল সুযোগের সাথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ ও আমাদের সামনে আসে।বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ এই প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালোমতো জানেনা এবং অনেকের মনে একটি নিয়ে ভয় কাজ করে। এছাড়া ব্লক চেইন চালানোর জন্য যে ধরনের উন্নত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রয়োজন আমাদের দেশে তা এখনো সবার কাছে নেয়া সহজ নয়। এই বিষয়ে দক্ষ মানুষের অভাব ও একটি বড় বাধা কারণ এই প্রযুক্তি শেখার জন্য মানসম্মত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখনো অনেক কম। আমাদের দেশের আইন কানুন এগুলোতেও একটি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে আরও পরিষ্কার নিয়ম থাকা প্রয়োজন। এই গুলো সমাধান করতে পারলে আমরা অনেক দ্রুত উন্নতি করতে পারব।

ভালো দিক হলো আমাদের দেশের সরকার এবং অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন তরুণদের এই বিষয়ে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। বাংলাদেশের অনেক মেধাবী ছেলে-মেয়ে এখন ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রজেক্টে ব্লক চেইন নিয়ে কাজ করছে। আমরা যদি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এই আধুনিক প্রযুক্তি গুলো যুক্ত করতে পারি তবে আমাদের দেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। চ্যালেঞ্জগুলো পার হয়ে আমরা যদি এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারি তবে বাংলাদেশ একদিন প্রযুক্তি দুনিয়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তাই এখন থেকে আমাদের এই বিষয়ের সচেতন হওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করা অনেক জরুরী।

ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে ব্লগ চেইন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ 

ক্রিপ্টোকারেন্সির বাইরে ব্লগ চেইন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ এখন সারা পৃথিবীতে অনেক বড় বড় কাজে দেখা যাচ্ছে।অনেকে মনে করেন যে ব্লক চইন মানেই শুধু বিটকয়েন বা কয়েন কেনাবেচা করা কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। যেমন ধরুন আপনি যখন বাজার থেকে কোন পণ্য কেনেন এটি কোথা থেকে এলো এবং সেটি খাটি কিনা তা জানার কোন উপায় থাকে না। কিন্তু ব্লক চেইন ব্যবহার করে একটি পণ্যর পুরো ইতিহাস বের করা সম্ভব। কোন ওষুধ কারখানা থেকে ফার্মেসি পর্যন্ত ওষুধ পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ যদি এই সিস্টেমে রেকর্ড থাকে তবে নকল ওষুধের কারবার চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় একটি সুসংবাদ।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্র এই প্রযুক্তির অনেক চমৎকার ব্যবহার রয়েছে। এখনকার দিনে অনেক ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি হয় যা ধরা অনেক কঠিন। কিন্তু যদি সব সার্টিফিকেট ব্লক চেইন এর মাধ্যমে দেওয়া হয় তবে কেউ আর নকল সার্টিফিকেট বানাতে পারবে না এবং স্ক্যান করলেও বোঝা যাবে এটি আসল কিনা। ভোটার তালিকার নাম নিবন্ধন করা কিংবা অনলাইনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি জাদুর মতো কাজ করে। এতে করে ভোটের ফলাফল নিয়ে কেউ আর কোন সন্দেহ করতে পারে না এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ। এমনকি গানের লেখক বা সিনেমার পরিচালকরা তাদের কাজের  মালিকানা ধরে রাখতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন যাতে কেউ তাদের কাজ চুরি করতে না পারে।

বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাপ্লাই চিইন বা মালামাল আনা নেওয়া কাজেও এটি এখন অনেক বড় ভরসার নাম। একটি জাহাজ কখন ছাড়লো এবং মালমাল নামালো তা নিখুঁতভাবে দেখার জন্য এটি সেরা উপায়। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতেও লেনদেনে নিরাপত্তা বাড়াতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বহুমুখী ব্যবহারের কারণেই ব্লক চেইনকে বলা হয় আগামীর পৃথিবীর মূল ভিত্তি  এটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে আরো বেশি পরিষ্কার, নিরাপদ এবং সহজ করতে সাহায্য করছে। এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ আমাদের পৃথিবীকে একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

শেষ কথা: ব্লক চেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

ব্লক চেইন প্রযুক্তি কি এবং কেন গুরুত্ব নিয়ে আমাদের আজকের এই বড় আলোচনা একদম শেষ পর্যায়ে আমরা চলে এসেছি। এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পেরেছি যে পৃথিবীর খুব দ্রুত একটি ডিজিটাল বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এই বিপ্লবের নামই হলো ব্লক চেইন। আপনার ভেতরে যদি এই আধুনিক  প্রযুক্তি  সম্পর্কে স্পষ্ট এবং পরিষ্কার ধারণা থাকে তবে আপনি আগামীর যে কোন বড় সুযোগ খুব সহজেই লুফে নিতে পারবেন। এটি কেবল একটি বিষয় শেখা নয় বরং নিজেকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তৈরি করে নেওয়া।

মনে রাখবেন কোন নতুন প্রযুক্তিকেই ভয় পাওয়া উচিত নয় এবং বরং সেটি কিভাবে আমাদের জীবনে মান উন্নত করতে পারে তা দেখাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার আজকের এই একটুখানি সচেতনতা এবং শেখার আগ্রহ আপনাকে ভবিষ্যতে একজন সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।ব্লক চেইনের মতো জাদুকারী প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে আমরা একটি সৎ স্বচ্ছ এবং নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে পারব। আপনার সুন্দর ও সকল ক্যারিয়ারের জন্য আমার পক্ষ থেকে সব সময় অনেক অনেক শুভকামনা ও দোয়া রইল।


 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Md. Abir Hossain
TonMoy Ahmad
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও অর্ডিনারি আইটির সিনিয়র সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।