পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হলে কি ঘটতে পারে?
শিরোরাম পড়ে কি ভাবছেন হয়তো ভাবছেন তাহলে অনেক মজা হত, লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে বেঁচে পৃথিবীর বেঁচে থাকতাম আর পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতাম,পৃথিবীতে আরাম আয়েশ করে শুধু খাওয়া দাওয়া আর ফুর্তি করতাম, মন যা চায় তাই করতাম, কারোর কাছে কোন দয়াবদ্ধতা থাকতো না, মৃত্যুরও কোন ভয় থাকত না, তাই না?
যতটা সুখবর ভাবছেন বিষয়টা আসলে মোটেও ততটা সুখবর নয়। আজকের পৃথিবীটা যে যেমনটা দেখছেন পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হলে বরং এর চেয়ে অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক হতো।আসুন, এবার তাহলে জেনে নেই "পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হলে কি হতে পারে"?
বিষয়টা নিয়ে আলোচনার পূর্বে চলুন প্রথমেই জেনে নেই পৃথিবীর জনসংখ্যা সম্পর্কিত কিছুটা পরিসংখ্যান।আজ থেকে আরও ১০০০ বছর পূর্বে অর্থাৎ,১,০০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ কোটি। এর প্রায় ৮০ বছর পরে ১৮০৪ সালে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ১০০ কোটি পূর্ণ হয়।আর বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৭৫০ কোটি,অর্থাৎ গত ২০০ বছরে জনসংখ্যা পেয়ে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ গুণ যা পূর্বের ৪০০ বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর বর্তমানে প্রতিদিন ৩,৬০,০০০শিশু জন্মগ্রহণ করে যায় মধ্যে আবার ১,৫২,০০০ শিশু মারা যায়।এই হারে চলতে থাকলেও পরিসংখ্যান বিদদের মতে,২০৫০ সালে জনসংখ্যা হবে ৯৮০ কোটিতে এবং ২১০০ সালের মধ্যে তা ১১০০কটি ছাড়িয়ে যাবে।আর যদি মৃত্যু হারটা থেমে যায় অর্থাৎ পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হয় তাহলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
এবার আসি মূল আলোচনায়,পৃথিবীতে যদি মানুষের মৃত্যু না হয় উপরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী খুব দ্রুত গতিতে পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে।খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্বিগুণ, তিনগুণ, বহুগুণ হতে থাকবে।বাড়তি মানুষের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে পৃথিবীর বিদ্যমান সম্পদ খুব দ্রুত নিঃশেষ হতে থাকবে, পৃথিবীর বেকারত্বের সমস্যার প্রবল হয়ে উঠবে।
কোন কিছু করতে না পেরে জীবনের প্রয়োজনে বেকার যুবকরা অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠবে।চুরি,ডাকাতি,লুটতরাজ,ছিনতাই,রাহাজানি ইত্যাদি অপরাধমূলক নানা কর্মকাণ্ডে মানুষ জড়িয়ে পড়বে। এর ফলে মানুষের হয়ে উঠবে নিরাপত্তাহীন।যত সম্পদ অর্জন করুন না কেন কেউ সুখে শান্তিতে এবং নিরাপদে বাস করার নিশ্চয়তা পাবে না। এর ফলে প্রতিটি মানুষের জীবন হয়ে উঠবে দুর্বিসহ।
অতিরিক্ত মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে গিয়ে নতুন নতুন কল কারখানা স্থাপন করতে হবে। আর কল কারখানায় বিষাক্ত ধোয়া ও বর্জ্যোর কারণে ব্যাপকহারে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাবে, এর ফলে একদিকে যেমন বৈষম্য উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে মানুষের রোগব্যাধি ও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধিতে ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ যন্ত্রণায় কাটরাতে থাকবে তা সত্ত্বেও মানুষ মরবে না।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর একাংশ তালিয়ে যাবে পানির নিচে, মানুষের বসবাসযোগ্য জায়গায় পরিমাণ আরো কমে আসবে। এদিকে অতিরিক্ত মানুষের চাহিদা পূরণ করতে যানবাহনের সংখ্যাও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।ফলে রাস্তাঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যাম লেগে থাকবে।
পৃথিবীর এক প্রকার নরকের যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে থাকবে তখন মানুষ এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাইবে, পৃথিবীতে বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে যাবে আত্মহত্যার প্রবণ হয়ে উঠতে পারে অনেক মানুষ, কিন্তু তখন মৃত্যু চাইলেও মরতে পারবেন না। কারণ আগেই ধরে নিয়েছে পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু হবে না..
আবার পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সমূহের মধ্যে স্বার্থের দণ্ড বেড়ে যাবে।প্রত্যেকটা দেশ অপর দেশ থেকে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করবে।আবার প্রভাবশালী দেশ সমূহ বছরের পর বছর তাদের প্রভাব ধরে রাখতে যেকোনো উপায় হোক তাদের সামরিক ক্ষমতার বৃদ্ধি করবে।
এর ফলে পৃথিবীতে সৃষ্টি হবে আরো ভয়ংকর মরণান্ত পূর্বের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা পারমানবিক বোমা যেগুলো এক একটার বিস্ফোরণ পুরো পৃথিবীকে কাঁপিয়ে তুলতে পারে।
পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যু না হলেও একদিন হয়তো মানুষের তৈরি এই প্রযুক্তির ধ্বংসাত্নাক আঘাতে পুরো পৃথিবীটাই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এর পূর্বে যতদিন মানুষ পৃথিবীতে থাকবে ততদিন পরকালের ভয় না করলেও পৃথিবীতেই একপ্রকার নরকের যন্ত্রণা ভোগ করতে থাকবে।
এক কথায় বলতে গেলে, পৃথিবীতে যদি মানুষের মৃত্যু না হয় একদিন পৃথিবীটাই মানুষের কাছে এক জীবন্ত নরক হয়ে উঠবে যেখানে থেকে মানুষ মুক্তি চাইলেও মুক্তি পাবে না।সুতরাং মৃত্যু না হলে তাতে খুশি হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং মহান স্রষ্টা পৃথিবীতে মানুষের আসা যাওয়া যে বিধান ঠিক করে দিয়েছেন সেটাকেই সর্বোংকৃষ্ট বিধান মেনে তার ওপর সন্তুষ্টি আদায় করা দরকার।
ধন্যবাদ সবাইকে পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য। আজকে এই পর্যন্তই,ভালো থাকবেন, তোমার জন্য দোয়া করবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url